সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ (Profitability of Public Sector)

সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ (Profitability of Public Sector)

     সরকারি কারবারের মূল উদ্দেশ্য মুনাফা লাভ নয়। মুনাফা কারবারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। লাভের হার কারবারি ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষতা পরিমাপ করতে সাহায্য করে। নতুন আর্থিক নীতি গ্রহণের পর সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও দক্ষতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হচ্ছে।

 

Profitability of Public Sector

বেসরকারি সংস্থা [Private Sector] :

কারবার যখন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠীর দ্বারা গঠিত হয় তখন তাকে বেসরকারি সংস্থা বলে। বেসরকারি সংস্থার সমষ্টিতে তৈরি হয় বেসরকারি ক্ষেত্র। উদাহরণ : 

           1. টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি লিমিটেড (TISCO)

           2. টাটা মোটরস (Tata Motores) 

একমালিকানা, অংশীদারি, যৌথ হিন্দু পরিবার, ঘরোয়া কোম্পানি ও সর্বজনীন কোম্পানির সমষ্টিতে বেসরকারি ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। প্রতিটি সংস্থাই বেসরকারি সংস্থা।
 

 

বেসরকারি সংস্থার বৈশিষ্ট্য (Features of Private Sector)


● মালিকানা (Ownership) : ব্যক্তিমালিকানা বা সমষ্টিগত মালিকানায় বেসরকারি ক্ষেত্র গড়ে ওঠে। ও উদ্যোক্তা (Entrepreneur) ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তি বা সমষ্টি উদ্যোক্তার ভূমিকা
● মূলধন (Capital) : ব্যক্তি বা সমষ্টি মূলধন সরবরাহ করে। কখনোই সরকার মূলধন সরবরাহ করে না। ঋণমূলধন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি সরবরাহ করে থাকে।

●  নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা (Control and Management): ব্যক্তি বা সমষ্টি দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
● জনকল্যাণ (Public Welfare) : ব্যক্তি বা সমষ্টি জনগণকে পণাত্রব্য বা সেবা সামগ্রী সরবরাহ করে। কিন্তু মুনাফা পুঞ্জীভূত করে। শ্রেণিবৈষমা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তীব্রতর হয়।


বিশ্বব্যাপী কারবার [Global Enterprise]

যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান দেশের সীমারেখা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় যুক্ত হয় তাকে বিশ্বব্যাপী কারবার বলে। নিল. এইচ. জকোৰি (Neal H. Jocoby)-র মতে, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান যার মালিকানা ও ব্যাবসা দুই বা ততোধিক দেশে বিস্তৃত (A multinational corporation owns and manages business in two or more countries.) বিশ্বব্যাপী কারবার বিশ্ববাজার অধিকার করে। 

    উদাহরণ : ফিলিপস (মূল সংস্থা হল্যান্ডের)।
                   বাটা (মূল সংস্থা পূর্বতন চেকোশ্লোভাকিয়ার)।
                   জনসন আস্ত জনসন (মূল সংস্থা আমেরিকার)।
                   নিভিয়া (মূল সংস্থা জার্মানির)।
                   ওয়ালমার্ট (মূল সংস্থা আমেরিকার)।


       1978 খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন জনতাপটি সরকার আই বি এম (IBM) ও কোকা কোলার (Coco Cola) ব্যাবসা ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। আশির দশকে ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট খ্যাচার (Margaret Thatcher) বিশ্বায়নের নতুন ধারণা বাস্তবায়িত করেন। আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন (Ronald Reagan) বিশ্বায়নের পথ প্রশস্ত করেন। 1991 খ্রিস্টাব্দে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহ-এর হাত ধরে নতুন আর্থিক নীতি উদারীকরণ, বেসরকারিকরণ ও ভুবনীকরণ (Liberalisation-Privatisation- Globalisaticin or LPG) চালু হয়। সারা পৃথিবীতে 10,000-এর বেশি সরকারি সংস্থা বেসরকারি সংস্থায় পরিণত হয়।


      IMF-এর সমীক্ষা অনুসারে নতুন অর্থিক নীতির ফলে ভারতে বড়োলোেক আরও বড়োলোক হয়েছে এবং গরিব আরও গরিব হয়েছে। ফলস্বরূপ, একটি ভারতবর্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে দুটি ভারতবর্ষ—ধনী ভারতবর্ষ (Rich India) ও গরিব ভারতবর্ষ (Poor India)। ব্রিটেন ও আমেরিকায় বিশ্বায়নের ফলে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। যদিও এই সমস্ত দেশে সামাজিক সুরক্ষা চালু থাকায় ন্যূনতম চাহিদা থেকে কর্মহীন শ্রমিক কর্মচারীরা বঞ্চিত হয় না। ভারতবর্ষে যেটুকু উদারীকরণ চালু হয়েছে তাতেই এই সমস্যা প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে। যেখানে আমেরিকার সামাজিক সুরক্ষা 90 শতাংশ প্রসারিত, সেখানে ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষা মাত্র 11 শতাংশ প্রসারিত।

         এশিয়ার ওয়ালমার্ট স্টোর্স-এর প্রেসিডেন্ট-সিইও স্কট প্রাইস ভারতে খুচরো বিপনি খোলার ব্যাপারে আশাবাদী। 2012-র সেপ্টেম্বরের শুরুতে ড. মনমোহন সিংহের সরকার খুচরো ব্যাবসার 51 শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরই এই উদ্যোগ শুরু হয়। পাইকারি ব্যাবসায় বিদেশি বিনিয়োগের বহু আগে ভারতীয় খুচরো বিপনি ইজিভিতে 10 কোটি ডলারে রূপান্তরযোগ্য ঋণপত্র কিনে ওয়ালমার্ট পিছনের দরজা দিয়ে খুচরো ব্যাবসায় বিদেশি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে চেয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। 2014 সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এন ডি এ (NDA) সরকার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে 100 শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের সুপারিশ করে।