বিধিবদ্ধ সংস্থার বৈশিষ্ট্য (Features of Statutory Corporation)

বিধিবন্ধ কর্পোরেশন [Statutory Corporation]


বিশেষ আইনে সৃষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিধিবন্ধ প্রতিষ্ঠান বলে। উদাহরণ : ভারতে জীবন বিমা নিগম (Life Insurance Corporation of India) অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কমিশন (Oil and Natural Gas Commission) ভারতের খাদ্য কর্পোরেশন (Food Corporation of India) দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (Damodar Valley Corporation)

 

Features of Statutory Corporation

বিধিবদ্ধ সংস্থার বৈশিষ্ট্য (Features of Statutory Corporation)

● গঠন (Formation) সংসদ বা বিধানসভায় বিশেষ আইনের ফলে সৃষ্টি হয়।
● অর্থসংস্থান (Financing) সরকার বা সরকারি সংস্থা থেকে মূলধন সংগ্রহ করা হয়।
●  ব্যবস্থাপনা (Management) : সরকার মনোনীত পর্ষদ দ্বারা শাসিত হলেও সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা ভোগ করে।
● উদ্দেশ্য (Objectives) : জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে গঠিত।
● ঝুঁকি ও মুনাফা (Risk and Profit) : সমস্ত ঝুঁকি সরকারের এবং মুনাফা রাজস্বে জমা পড়ে।

●  কর্মচারী (Employee) : কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারী নয় এবং নিয়োগ ও চাকুরির শর্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত।
● পৃথক সভা (Separate Entity) : এই সংস্থার নিয়মকানুন পৃথক আইন দ্বারা সৃষ্টি হয় বলে আইনগত পৃথক সব্জ আছে।


বিধিবদ্ধ সংস্থার সুবিধা (Advantages of Statutory Corporation)

● সেবার উদ্দেশ্য (Service Motive) : বিধিবদ্ধ সংস্হা মুনাফার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় না। 'না-লাভ না-ক্ষতি' ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনসাধারণের সেবাই এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য। 

● আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত (Free From Bureaucracy) : বিধিবদ্ধ সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থা আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত। অন্যদিকে, পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাংসদ বা বিধায়ক সংসদে বা বিধানসভায় কৈফিয়ত দিতে বাধ্য থাকেন।
● দক্ষতা (Efficiency) দক্ষ কর্মচারী নিয়োগ করে পরিচালনায় উৎকর্ষ বৃদ্ধি সম্ভবপর হয়।
● জনকল্যাণ (Public Welfare) : জনকল্যাণের জন্য বিধিবদ্ধ সংস্থা স্থাপিত হয়। এই সংস্থায় সরকারের মালিকানা বজায় থাকায় জনকল্যাণের পক্ষে কাজ করা সম্ভব হয়।
● পরামর্শদাতা (Advisor) : জনস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হলে সরকার পরামর্শ দান করতে পারে অথবা পরিচালক পর্যদ পরিবর্তন করে সংস্থাকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারে।
● স্বাধিকার (Sovereignty) : আইনের কাঠামোর মধ্যে স্বাধিকার ভোগ করে। কারবারের প্রয়োজনে নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভবপর হয়।

 

বিধিবদ্ধ সংস্থার অসুবিধা (Disadvantages of Statutory Corporation)

● ব্যবস্থাপনা (Management) : জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে স্থাপিত হলেও এই ধরনের সংস্থায় জনপ্রতিনিধিত্বের কোনো সুযোগ নেই। সংগঠন পরিচালনায় মনোনীত ব্যক্তিদের প্রাধান্য থাকে।
● করের সুবিধা (Benefit of Tax) : বিভাগীয় সংগঠনের মতো বিধিবদ্ধ সংস্থার আয় করমুক্ত নয়।
● পৃষ্ঠপোষকতা (Patronising) : সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কারণে অযোগ্য ব্যক্তিরা পরিচালন পর্যদে স্থান পায় এবং পরিচালক পর্ষদের অদক্ষতার ফলে বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যপূরণ সম্ভবপর হয় না।
● স্বাধিকার (Sovereignty) : বিধিবন্ধ সংস্থা গঠনের স্বাধিকার দেওয়া হলেও বাস্তবে সরকার হস্তক্ষেপ করে।
● জনকল্যাপ (Public Welfare) : জনকল্যাণ পরিমাপযোগ্য না হওয়ার ফলে বিধিবদ্ধ সংস্থার সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ণয় করা সম্ভবপর হয় না।
● পরিবর্তনশীলতা (Changeability) : কারবারি জগৎ দ্রুত পরিবর্তনশীল। সংসদে আইন পাস করে পরিবর্তনশীলতা আনতে হয় বলে বিধিবদ্ধ সংস্থা পরিবর্তনশীলতার সুযোগ হারায়।

অধ্যাপক রবিনসনের মতে, ঊনবিংশ শতাব্দীতে ধনতান্ত্রিক কারবারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ব্যক্তি মালিকানার কোম্পানিগুলি যে ভূমিকা পালন করেছিল বিংশ শতাব্দীতে জাতীয় শিল্পের ক্ষেত্রে সর্বজনীন কর্পোরেশন সেই ধরনের ভূমিকা পালন করবে (Prof. Robinson in opined that Public Corporation, is destined to play an important part in the field of nationalised industries in the twentieth century as the pri- vately owned corporation played in the realm of capitalist organisation in the nineteenth century")