সরকারি কোম্পানির বৈশিষ্ট্য (Features of Government Company)

সরকারি কোম্পানি [ Government Company ]

Features of Government Company


2013 খ্রিস্টাব্দের কোম্পানি আইনের 2(45) ধারায় সরকারি মালিকানায় যৌথ মূলধনি কারবার গঠনের ব্যবস্থা আছে। যে সমস্ত কোম্পানিতে ন্যূনতম 51 শতাংশ শেয়ারের মালিক কেন্দ্রীয় সরকার বা এক বা একাধিক রাজ্যসরকার তাকে সরকারি কোম্পানি বলে।
উদাহরণ : 1. স্টেট ট্রেডিং কর্পোরেশন (State Trading Corporation) (সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানা)
               2. ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশন (West Bengal Industrial Development
                   Corporation বা WBIDC) (যৌথ কোম্পানি)
               3. ভারতীয় স্টেট ব্যাংক (State Bank of India) (জাতীয়করণের ফলস্বরূপ)
               4. ইন্ডিয়ান অয়েল লিমিটেড (Indian Oil Limited)
               5. অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কমিশন (Oil and Natural Gas Commission


সরকারি কোম্পানির বৈশিষ্ট্য (Features of Government Company)

● গঠন (Formation) : কোম্পানি আইন দ্বারা গঠিত এবং সরকার মনোনীত পরিচালকমন্ডলী দ্বারা পরিচালিত। একই পদাধিকারী একাধিক সরকারি কোম্পানির পরিচালক পর্ষদের সদস্য হতে পারেন।
● মূলধন (Capital) : মোট মূলধনের অন্তত 51 শতাংশ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হাতে থাকে।
● নিরীক্ষা (Audit): বাৎসরিক হিসাব কম্পট্রেলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অব ইন্ডিয়া (Comptrol- ler and Auditor General of India or CAG) দ্বারা পরীক্ষা করিয়ে সংসদে পেশ করা হয়।
● মালিকানা (Ownership) : সরকারি সংস্থার মালিক ভারতের রাষ্ট্রপতি।
● সভা (Meeting) সরকারি কোম্পানির আইন অনুসারে বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করা হয় না।
● সত্তা (Entity) বেসরকারি কোম্পানির মতো পৃথক সত্তা আছে।
● মুনাফা : কোম্পানির অর্জিত মুনাফা শেয়ারগ্রহীতাদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে ভাগ করে দেওয়া হয়। সরকারের প্রাপ্য অংশ সরকারি তহবিলে জমা হয়।

 

সরকারি কোম্পানির সুবিধা (Advantages of Government Company)

● বাণিজ্যিক উদ্যোগ (Commercial Venture) : এই ধরনের সংস্থায় বাণিজ্যিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ফলে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা সম্ভব।
● দক্ষতা (Efficiency) : ব্যাবসার পদ্ধতি বেসরকারি ধাঁচের। ফলে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর সুযোগ থাকে।
● স্বতন্ত্র সত্ত্বা (Separate Entity) : সরকারি কোম্পানির পৃথক সত্তা থাকায় সাংগঠনিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা সম্ভব এবং বিভাগীয় ও বিধিবদ্ধ সংস্থা অপেক্ষা অনেক বেশি নমনীয়।
● মূলধন সংগ্রহ (Raising Capital) : জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভব। এ ছাড়াও সরকারি তহবিল থেকেও মূলধন সংগৃহীত হয়।
● আমলাতান্ত্রিক প্রভাব মুক্ত (Free from Bureaucracy) : আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা মুক্ত ও লাল ফিতের ফাঁস মুক্ত (free from redtapism) |
● স্থায়িত্ব : সরকারের পরিবর্তন ঘটলেও পরিচালন ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয় না, ফলে সরকারি কোম্পানির স্থায়িত্ব অনেক বেশি।

 

সরকারি কোম্পানির অসুবিধা (Disadvantages of Government Company)

● গণতন্ত্রের অভাব (Lack of Democracy) : সরকারি কোম্পানিতে ন্যূনতম 51 শতাংশ শেয়ারের মালিক সরকার বলে পরিচালন পর্ষদে সরকার মনোনীত প্রতিনিধির আধিক্য থাকে। ফলস্বরূপ, গণতন্ত্র ব্যাহত হয়।
● আমলাতান্ত্রিক প্রশাসন (Bureaucratic Administration) : আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার ফলে সরকারি পদস্থ আধিকারিকরা আর্থিক ক্ষমতা ভোগ করে।
● শ্রমিক-কর্মচারী (Employee Worker) : এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীরা আধা সরকারি কর্মচারী হওয়ায় তারা সরকারি কর্মচারীদের মতো সুযোগসুবিধা ভোগ করেন না, ফলে তাদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনার অভাব দেখা যায়।
● প্রতারণামূলক কাজ (Fraudulent Activities) : সরকারি কোম্পানি নামেই সরকারি কোম্পানি। সাচ্চার কমিটির মতে, সরকারি কোম্পানি ও বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই। অনেকে মনে করেন, কোম্পানি আইন ও সংবিধানের নামে সরকারি কোম্পানি একটি প্রতারক সংস্থা মাত্র।
● সরকারের উপর নির্ভরশীলতা (Dependence on Government) : মূলধন ও ঋণ সংস্থানের জন্য অর্থমন্ত্রকের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়।
● কর (Tax) : সরকারি কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে কর প্রদান করতে হয়।