সরকারি কারবারের বিভিন্ন রূপ (Different Form of Government Organisation)

সরকারি কারবারের বিভিন্ন রূপ (Different Form of Government Organisation)

Different Form of Government Organisation


স্বাধীন ভারতে প্রথম শিল্পনীতি গৃহীত হয় 1948 খ্রিস্টাব্দে। পরবর্তী শিল্পনীতিগুলি গৃহীত হয় 1956, 1970, 1973, 1977, 1980, 1991 খ্রিস্টাব্দে। 1956 খ্রিস্টাব্দের শিল্পনীতি ছিল সরকারিকরণমুখী। অন্যদিকে 1991 খ্রিস্টাব্দের শিল্পনীতি ছিল উদারনীতির পক্ষে যা মনমোহনী শিল্পনীতি বলে খ্যাত।


তিন ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দেখা যায় : 1. বিভাগীয় সংগঠন (Departmental Organisation) 2. বিধিবদ্ধ কর্পোরেশন (Statutory Corporation) 3. সরকারি কোম্পানি | Government Company)

 

বিভাগীয় সংগঠন [ Departmental Organisation ]

যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান সরকারের একটি প্রশাসনিক বিভাগৰূপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয় ডাকে বিভাগীয় সংগঠন বলে। উদাহরণ : ভারতীয় রেল (Indian Railway)
                                   ডাক ও তার বিভাগ (Post and Telegraph Department)
                                   প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা (Ordinance Factory Board)


বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য (Features of Departmental Organisation)

● অর্থের সংস্থান (Source of Finance) : সরকারি তহবিল থেকে বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে অর্থের সংস্থান হয়।
● প্রশাসন (Administration) কারের প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে স্ফপিত এবং প্রধান কর্মকর্তা আমলা বা মন্ত্রী।
● কর্মচারী (Employee) : প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সরকারি কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হয়। নিয়োগ ও চাকুরির শর্ত সরকারি কর্মচারীদের মতো।
● হিসাব ও পরীক্ষা (Audit and Accounts) : সরকারের অন্যান্য প্রশাসনিক বিভাগের মতো বাজেট, হিসাব রক্ষা ও পরীক্ষা সরকারি নীতি অনুসারে ‘CAG' (and Audit of General) (সিএজি)-র অধীন।
● রাষ্ট্রীয় অনাক্রম্যতা ( Sovereign Immunity) : সরকারের অনুমতি ছাড়া বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় অনাক্রম্যতা ভোগ করে।


বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের সুবিধা (Advantages of Departmental Organization)

● গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা (Important Organisation) প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক ক্ষেত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা রক্ষা করা বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব।
● লক্ষা (Goal] : অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে ও লক্ষ্য পূরণে বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ।
● মূল্যায়ন (Evaluation) : বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম বিধায়ক সাংসদ বিধানসভা বা সংসদে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আলোচনা করতে পার।
● প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ (Direct Control) : সরকারের প্রত্যক্ষ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। জাতীয় স্বার্থে এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হয়।
● নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বণ্টন (Distribution of Essential Commodities) : নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্য বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 


বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের অসুবিধা (Disadvantage of DepartmentalOrganisation)

● মানসিকতা (Mentality) : সরকার কারবারিরূপে কাজকর্ম পরিচালনা করতে গিয়ে দক্ষতা বক্তার রাখতে পারে না।
● অর্থসংস্থান (Financing) : বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থসংস্থান পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের দ্বারা সংগঠিত হয় না, সরকারি তহবিল থেকে অর্থ সংস্থান হওয়ার ফলে উৎকর্ষতা হ্রাস পায়। 

● রশীলতা (Conservation) : বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের কাজ বিধানসভা বা সংসদে আলোচনার ফলে ব্যবস্থাপকগণ রক্ষণশীল হয়ে পড়ে এবং দক্ষতা হ্রাস পায়।
● নমনীয়তা (Flexibility) : কঠোর সরকারি নীতি গ্রহণের ফলে কারবারের সাফল্যের উপযোগী সাংগঠনিক নমনীয়তার অভাব লক্ষ করা যায়।
● সরকারি হস্তক্ষেপ (Intervention of Government) এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সরকারের হস্তক্ষেপ বেশি এবং প্রত্যেকটি কাজ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষ।