সর্বজনীন কোম্পানির গঠনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল...

সর্বজনীন কোম্পানির গঠনের বিভিন্ন ধাপ [ Stoges in the Public Limited Company ]

Stoges in the Public Limited Company

 


সর্বজনীন কোম্পানির গঠনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল—


নথিভুক্তকরণ (Incorporation or Registration) : কোম্পানি কৃত্রিম বাস্তিরূপে আত্মপ্রকাশ করে।
কোম্পানির নথিভুক্তকরণের মধ্যে দিয়ে। কোম্পানির নিবন্ধন আধিকারিকের (Registrar of Compa
nies) কাছে বডি কর্পোরেট (Body Corporate) রূপে আত্মপ্রকাশ করে। এটি একটি আইনি প্রক্রিয়া, যার
মধ্য দিয়ে কারবারের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ঘোষিত হয়। কোম্পানির নথিভূক্তকরণ পর্ব সম্পূর্ণ হয় যখন
নথিভুক্তকরণের শংসাপত্র (Certificate of Incorporation) পাওয়া যায়। নথিভুক্তকরণের শংসাপত্র
(Certificate of Incorporation) পাওয়ার পর সর্বজনীন কোম্পানি কাজ শুরু করতে পারে না।
কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র (Certificate of Commencement of Business) পেলে কাজ শুরু করতে
পারে।


ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে উপযুক্ত শুষ্ক (Fees) জমা দিতে হয়। কোম্পানির
নিবন্ধক ফর্ম পর্যালোচনা করবেন এবং তিনি সন্তুষ্ট হলে নিবন্ধিত তালিকায় কোম্পানির নাম অন্তর্ভুক্ত
করা হবে। শংসাপত্র পাওয়ার দিন থেকে কোম্পানি বডি কর্পোরেট হিসেবে বিবেচিত হবে। কোম্পানির
নিবন্ধিত শংসাপত্র প্রাপ্তি প্রমাণ করে কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নিবন্ধনের বৈধতা কোর্টে সালেঞ্জ করা যায় না।


সংগৃহীত মূলধন (Capital Subscription) : কোম্পানি নিবন্ধনের পরবর্তী কাজ জনসাধারণের কাছ
থেকে মূলধন সংগ্রহ। ঘরোয়া কোম্পানি এবং সর্বজনীন কোম্পানি নিবন্ধনের পর শেয়ার মূলধন ছাড়া
ব্যাবসা শুরু করতে পারে না। সর্বজনীন কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে
নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করে।


কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র (Commencement of Business) : সর্বজনীন কোম্পানি শেয়ারমূলধন
এবং বিবরণপত্র তৈরি না করে ব্যাবসা শুরু করতে পারে না। নথিভুক্তকরণের পাশাপাশি সর্বজনীন
কোম্পানিকে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র জোগার করতে হয়। কার্যারম্ভের অনুমতি পত্র পেতে গেলে
কোম্পানিকে নিম্নলিখিত তথ্যাবলি প্রদান করতে হয়—


(a) বিবরণ পত্র বা বিবরণীপত্রে বিকল্প বিবরণী (Prospectus or Statement in lieu of prospectus)
(b) ন্যূনতম সংগৃহীত মূল্যের (Minimum subscription) পরিবর্তে শেয়ার আবষ্টন করা হয়েছে কি না।
(c) পরিচালক পর্ষদের সদস্যরা ন্যূনতম শেয়ার সংগ্রহ করেছে কি না।
(d) কোনো আবেদনকারীর অর্থ বাকি নেই।
(e) পরিচালক বা সচিব এই মর্মে ঘোষণা করবেন যে, ব্যাবসা আরম্ভের সমস্ত পদ্ধতি সূচারুরূপে সম্পন্ন
করা হয়েছে।

 

কোম্পানি গঠনের পূর্বে কী কী বিষয় পর্যালোচনা করা উচিত [Various Factors to be Consider before Promotion of a Company]


কোম্পানি গঠনের পূর্বে যেসব বিষয় পর্যালোচনা করা উচিত তা নীচে আলোচনা করা হল—

ব্যবসায়ী ধারণা (Business Idea) : ব্যবসায়ী সুযোগসৃষ্টির ধারণা বা চিন্তার মধ্যে দিয়ে ব্যাবসা বা
কারবার গঠনের জয়যাত্রা শুরু হয়। অপূর্ণ চাহিদা, সম্পদের অপব্যবহার, নিম্নমানের পণ্য বা নতুন নতুন
উদ্ভাবন নতুন কারবারের চাহিদা সৃষ্টি করে। ব্যাবসায়িক ধারণা অসম্পূর্ণ হলে কারবারি সাফল্য অধরা
থেকে যাবে।

বিস্তারিত পর্যালোচনা (Detailed Investigation) : ব্যাবসায়িক ধারণা জন্ম নিলে পূর্ণাঙ্গ
পর্যালোচনায় ব্রতী হতে হয়। এই পর্যালোচনার দুটি দিক আছে। একটি প্রযুক্তিগত দিক এবং অন্যটি আর্থিক দিক। প্রযুক্তিগত দিক পর্যালোচনার জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারের সাহায্য নেওয়া হয়। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক দিক পর্যালোচনার জন্য আর্থিক বিশ্লেষকের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে 'Project Report' বা 'Feasibility Report' পেশ করা হয়।


সম্মিলিতকরণ (Assembling) : প্রজেক্ট রিপোর্ট পাওয়ার পর সংযুক্তিকরণের কাজ শুরু হয়। কারবারে
অন্য কোনো সহায়তা যুক্ত করতে হলে বা কারও আবিষ্কার বা উদ্ভাবনা বিবেচিত হতে পারে। পেটেন্ট
পাওয়ার অধিকারী হতে পারে। কারখানার স্থান নির্বাচন, কারখানা, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সরবরাহ-
কারীর সঙ্গে চুক্তি এর অবশ্যম্ভাবী উপাদান বলে বিবেচিত হয়। কারবারের আকার এবং কারবারের
আকৃতি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়।


আর্থিক বিষয় (Financial Proposition) : আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মূলধনায়ন, মূলধন কাঠামো,
সময় ও মূলধন সংগ্রহের পদ্ধতি বিশেষভাবে বিবেচিত হয়। অর্থের পরিমাণ ও উৎস বিশেষভাবে
পর্যালোচনা করা হয়। আর্থিক বিবরণী (Financial Statement), বিবরণ পত্রের মাধ্যমে জনসাধারণের
গোচরে আনা হয় যাতে জনসাধারণ পাবলিক ইস্যুর মাধ্যমে কারবারের অর্থসংস্থানে অংশগ্রহণ
করতে পারে। দায়গ্রাহক, শেয়ার দালাল, শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদিত হয়।
শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার সমপ্তি ঘটে। এ ছাড়াও ব্যাংক
ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে স্বল্পকালীন, মধ্যকালীন ও দীর্ঘকালীন ঋণমূলধন সংগ্রহ করা যায়।