সর্বজনীন কোম্পানির অসুবিধা (Disadvantages of Public Limited Company)

 সর্বজনীন কোম্পানির অসুবিধা (Disadvantages of Public Limited Company)

Public Limited Company

 


● গঠনের জটিলতা (Complexcity in Formation) : কোম্পানি গঠনের আনুষ্ঠানিকতা অবলম্বন করতে হয়। প্রক্রিয়াটি জটিল, ব্যয়সাধ্য ও সময়সাপেক্ষ।

 

● পরিচালনায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অভাব (Lack of Democracy in Management) : আইনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা বলা থাকলেও বাস্তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান নয়। পরিচালন পর্ষদ নির্বাচনে গোষ্ঠীর শেয়ারের সঙ্গে সমিতিবন্ধ (Body Corporate) শেয়ার যুক্ত করে সাধারণ শেয়ারগ্রহীতাদের বঞ্চিত করে কারবার কুক্ষিগত রাখা হয়।

উদাহরণ : টাটা, বিড়লা, আম্বানি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানগুলি এর ব্যতিক্রম নয়। যেখানে পরিচালন পর্ষদ 10 শতাংশ সংগঠিত শেয়ারগ্রহীতার মাধ্যমে দখল করা সম্ভব, সেখানে যৌথ মূলধনি কোম্পানিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমাধি রচনা করা হয়।


● স্বজনপোষণ (Nepotism) : শেয়ারগ্রহীতার সংবদ্ধতার অভাবকে কাজে লাগিয়ে পরিচালন পর্ষদ স্বজনপোষণ করে। অনেক সময় যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ করে এবং ভবিষ্যতে কারবারের পতন ডেকে আনে


● ফাটকাবাজি (Speculation) : পরিচালকমণ্ডলী নিজেদের স্বার্থ Insider Trading-এর মাধ্যমে ফাটকাবাজি করে মুনাফা লাভ করে। উদাহরণ ঃ আমেরিকায় রজত গুপ্তা Insider Trading এর জন্য অভিযুক্ত হন।


● শেয়ার বাজেয়াপ্তকরণ (Forfeiture of Share) : শেয়ার তলবি অর্থ যথাসময়ে না দেওয়ার জন্য শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হয়। যা থেকে কোম্পানি সম্মিতি মূলধন (Capital Reserve) সৃষ্টি করে কিন্তু সাধারণ শেয়ারগ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।


● মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিচ্ছেদ (Divorce between Ownership and Management):
কোম্পানির শেয়ারগ্রহীতারা কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় অংশ গ্রহণ করতে সমর্থ হয় না। এটি প্রকৃত অর্থে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার বিচ্ছেদে পরিণত হয়।

 


ঘরোয়া কোম্পানির সুবিধা (Merits of Private Limited Company)


● কার্যারম্ভ (Incorporation) : কার্যারম্ভের অনুমতি পত্র (Certificate of Incorporation) পাওয়ার পরই কারবার শুরু করা যায় কার্য শুরুর অনুমতিপত্রের (Certificiate of Commencement of Business) জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।


● মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক (Owner-Worker relationship) : কারবারের আয়তন ছোটো হওয়ায় মালিকরা পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে এবং শ্রমিক মালিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে।


● মূলধন সংগ্রহ (Raising of Capital) :
শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে সহজেই মূলধন সংগ্রহ করা সম্ভবপর হয়।


● কম সদস্যসংখ্যা (Low Number of Share) : সদস্যসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মালিক নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা পালন করতে পারে।

 

● সংবিধিবদ্ধ সভা (Statutory Meeting) : সংবিধিবদ্ধ সভার আহ্বান বা সংবিধিবদ্ধ সভার বিবরণী নিবন্ধকের কাছে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

 


ঘরোয়া কোম্পানির অসুবিধা (Demerits of Private Limited Company)


● শেয়ার হস্তান্তর (Transfer of Share) : ঘরোয়া কোম্পানির শেয়ার জনসাধারণকে বিক্রি করা বা হস্তান্তর করা যায় না।


●  সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা (Maximum Number of Share) : ঘরোয়া কোম্পানিতে সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা 200


●  মূলধন সংগ্রহ (Capital) : জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করা যায় না বলে মূলধন সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা আছে।


● সংবিধিবদ্ধ সভা (Statutory Meeting) : বিধিবদ্ধ সভা ডাকার বাধ্যবাধকতা নেই বলে বহু বিষয়ে অনিয়ম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এক ব্যক্তি কোম্পানি (One Person Company) কোম্পানি আইন, 2013 ধারা 2 (68) অনুসারে যে কোম্পানিতে একজন সদস্য থাকে তকে এক ব্যক্তি কোম্পানি বলে।