কোম্পানির আইনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস [ Brief History of Company Act ]

 কোম্পানির আইনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস [Brief History of Company Act]


কোম্পানি বলতে বোঝায়, মুনাফার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিবর্গের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গঠিত একটি নিবন্ধিত ও স্বশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থা। যা কোম্পানি আইন দ্বারা পরিচালিত। 1850 খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে প্রথম কোম্পানি আইন পাস হয়। পরবর্তী পর্যায়ে 1866, 1912, 1913, 1936 এবং সর্বশেষ 1956 খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি আইন পাস হয়। 

History of Company Act

 

ভারতবর্ষে বর্তমান 1956 খ্রিস্টাব্দে কোম্পানি আইন বিভিন্ন সংশোধনী সমেত চালু ছিল। 2013 খ্রিস্টাব্দের ৪ আগষ্ট নতুন কোম্পানি বিল পাশ হয় এবং 2013 খ্রিস্টাব্দের 29 আগষ্ট রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের মধ্যে দিয়ে কোম্পানি আইন, 2013 লাগু হয়। ভারতীয় আইনসভা ৪ আগষ্ট, 2013 কোম্পানি বিল, 2013 পাশ করে এবং 29 আগষ্ট, 2013 রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সম্মতি লাভ করে। কোম্পানি আইন, 2013 কোম্পানি আইন, 1956 কে প্রতিস্থাপন করে।

কোম্পানি আইন, 2013-এর বিশেষত্ব হল :


1. কোম্পানি আইন, 2013 29টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
2. পূর্ববর্তী আইনের 658 টি ধারার পরিবর্তে 470 ক্লজ যুক্ত হয়েছে।
3. কোম্পানি আইন, 2013-তে 33 টি নতুন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
4. এক ব্যক্তি কোম্পানির ধারণা যুক্ত হয়েছে।


» কোম্পানির সংজ্ঞা (Definition of Company)


এল. এইচ. হ্যানে (L. H. Haney)-এর মতে, যৌথ মূলধনি কোম্পানি হল মুনাফার উদ্দেশ্যে ব্যক্তিবর্গের ঐচ্ছিক সমিতি, যার মূলধন হস্তান্তরযোগ্য, শেয়ার বিভাজিত এবং যার মালিকানা সদস্যদের (Joint Stock Company is a voluntary association of individuals for profit, having a capital divided into transferable shares, ownership of which is the condition of membership.) 

 

ইংল্যান্ডের প্রখ্যাত বিচারপতি লিন্ডলে (Lord Justice Lindley)-এর মতে, কোম্পানি হল একটি স্বেচ্ছামূলক, প্রতিষ্ঠান। যাতে বহু ব্যক্তি মূলধন বা আর্থিক সম্পদ একত্রিত করে একটা যৌথ তহবিল সৃষ্টি করে এবং তা কোনো কারবারে বিনিয়োগ করে, যা থেকে উপার্জিত মুনাফা বা সংঘটিত ক্ষতির অংশ নিজেরা ভাগ করে নেন। সদস্যরা শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে কোম্পানিতে মূলধন জোগান দেন। শেয়ারের মূল্য নির্দিষ্ট থাকে এবং মোট মূলধন কতগুলি সমসংখ্যক শেয়ারে বিভক্ত। বিশেষ ক্ষেত্রে শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য। 

 

(By a Company is meant an association of many persons who contribute money or money's worth to a common stock and employ it for a common pur- pose. The common stock so contributed is denoted in money, and is the capital of company. The persons who contribute, it or to whom it belongs are members. The proportion of capital to which each member is entitled in his share. The shares are always transferable although the right to transfer them is often more or less restricted.)


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিচারপতি সি. ঞ্জে. মার্শাল (Chief Justice C.J. Marshall)-এর মতে, কোম্পানি হল একটি কৃত্রিম ব্যক্তিত্ব যা অদৃশ্য, অস্পর্শনীয় এবং যার আইনভিত্তিক সত্তা আছে (A Corporation is an artificial being, invisible, intangible, existing only in contemplation of the law.) I 2013 খ্রিস্টাব্দের কোম্পানি আইনের 3 (1) ধারা অনুসারে কোনো আইনগত উদ্দেশ্যে কোম্পানি গঠন করা যেতে পারে-


(a) সাত বা ততোধিক ব্যক্তি সর্বজনীন কোম্পানি গঠন করতে পারে;
(b) দুই বা ততোধিক ব্যক্তি ঘরোয়া কোম্পানি গঠন করতে পারে;
(c) একজন ব্যক্তি যে কোম্পানি গঠন করে তা এক ব্যক্তি কোম্পানি বা ঘরোয়া কোম্পানি নামে পরিচিত।

 

A Compnay may be formed for any lawful purpose by-


(a) Seven or more persons, where the company to be formed is to be a public Company;
(b) Two or more persons, where the Company to be formed is to be an private Company; or
(c) One person, where the Company to be formed is to be one person Company that is to say, a private Company).


কোম্পানি আইনস্বীকৃত কৃত্রিম ব্যক্তি যার নির্দিষ্ট নাম আছে, নিজস্ব সিলমোহর আছে, যার স্বত্ব শেয়ারগ্রহীতাদের দ্বারা অধিকৃত, যার মূলধন হস্তান্তরযোগ্য নির্দিষ্টসংখ্যক শেয়ারে বিভক্ত, নিরবচ্ছিন্ন স্থায়িত্ব আছে এবং পরিচালকমণ্ডলী দ্বারা পরিচালিত।


 
» যৌথ মূলধনি কোম্পানির শ্রেণিবিভাগ (Classification of Joint Stock Company)


2013 খ্রিস্টাব্দের কোম্পানি আইন অনুসারে, যৌথ মূলধনি কোম্পানি বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যে সমস্ত কোম্পানিতে শেয়ারগ্রহীতার দায় শেয়ারের মূল্য দ্বারা সীমাবন্ধ তাকে দায়-সীমাবদ্ধ বা সীমিত দায়যুক্ত কোম্পানি বলে। শেয়ারের দ্বারা সীমাবদ্ধ দায়যুক্ত কোম্পানিকে মালিকানার বিস্তার ও আইনের সীমাবন্ধতার দিক থেকে দু-ভাগে বিভক্ত করা যায় – 

1. সর্বজনীন কোম্পানি (Public Limited Company) 

2. ঘরোয়া কোম্পানি (Private Limited Company), 

3. এক ব্যক্তি কোম্পানি (One Person Company)

 


সর্বজনীন কোম্পানি (Public Limited Company)


যে সমস্ত কোম্পানি নথিভুক্ত ও সীমাবদ্ধ দায়বিশিষ্ট এবং সর্বনিম্ন সদস্যসংখ্যা 7 কিন্তু সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা শেয়ারের সংখ্যা পর্যন্ত হতে পারে। সর্বজনীন কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে জনসাধারণের কাছে আবেদন করতে পারে এবং শেয়ার সহজেই হস্তান্তরযোগ্য তাকে সর্বজনীন কোম্পানি বলে। অন্যভাবে বললে, 2013 খ্রিস্টাব্দের কোম্পানি আইনের ধারা 2 (71) অনুসারে সর্বজনীন কোম্পানি হল সেই কোম্পানি যা ঘরোয়া কোম্পানি নয় এবং ন্যূনতম আদায়ীকৃত মূলধন ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি।


উদাহরণ : রিলায়েন্স ইন্ডাসট্রিস লিমিটেড (RIL), টিসকো (TISCO), লাফার্জ সিমেন্ট প্রভৃতি।

 

ঘরোয়া কোম্পানি (Private Limited Company)


2013 সালের কোম্পানি আইনের ধারা 2 (68) অনুসারে ন্যূনতম আদায়ীকৃত মূলধন 1 লক্ষ টাকা বা তার বেশি কিন্তু শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য নয়। এক ব্যক্তি কোম্পানি ছাড়া সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা 200। পরিমেল নিয়মাবলির বিধান অনুসারে ন্যূনতম সদস্যসংখ্যা 2 এবং সর্বোচ্চ 200 সদস্য নিয়ে গঠিত কোম্পানি ঘরোয়া কোম্পানি নামে পরিচিত। 

উদাহরণ : এ. বি. পি. প্রাইভেট লিমিটেড।