চাকরি, কারবার ও শিল্পের (Employment, Business & Industry)সংজ্ঞা গুলি আলোচনা করা হলো..

চাকরি [Employment ]


সংজ্ঞা (Definition) : বেতন বা মজুরির বিনিময়ে নির্দিষ্ট চুক্তির শর্তসাপেক্ষে মালিকের নির্দেশে যারা কাজ করেন তাঁদের কাজকে চাকরি বা এমপ্লয়মেন্ট বলে। যে চাকরি করে তাকে চাকুরীজীবী (employee) এবং যার অধীনে কাজ করা হয় তাকে নিয়োগকর্তা (employer) বা মালিক বলে।
 

* চাকরির বৈশিষ্ট্য (Features of Employment): চাকরির কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হল – (i) চাকরিরত ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কমপক্ষে আট ঘণ্টা। (ii) চাকরির ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা এবং চাকরির প্রার্থীর মধ্যে একটি নিয়োগ চুক্তি ঠিক করা হয়। (iii) চাকরিরত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ে তার পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। (iv) চাকরিরত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের শেষে অবসর নিতে হয়। (v) সরকারি চাকুরীজীবী ব্যক্তি অবসরকালে পেনশন গ্রহণ করেন।

Employment, Business & Industry

 

মুনাফার গুরুত্ব [Role of Profit ]


মুনাফা অর্জন কারবারের অন্যতম উদ্দেশ্য। কারবারি কার্যকলাপের পিছনে মুনাফা চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। মুনাফা একদিকে ঝুঁকি গ্রহণের পুরস্কার। অন্যদিকে, মুনাফা ঝুঁকি অপসারণের পুরস্কার। কারবারের অস্তিত্ব রক্ষা (existence), দক্ষতা (efficiency), উন্নতি (growth), সমৃদ্ধি (prosperity) এবং সম্মান (prestige)-এর জন্য মুনাফা জরুরি। মুনাফা সূর্যালোকের মতো প্রতিটি ক্ষেত্রকেই আলোকিত করে। 


1. অস্তিত্ব রক্ষার জন্য (Survival of the Business) : ব্যাবসার অন্যতম উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন। যদি কর্মচারীরা কারবারের জন্য সর্বোচ্চ পরিশ্রম না করে তবে কারবার বিপন্ন হতে বাধ্য। কারবারের প্রসারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কারবারের সাফল্য বৃদ্ধি পায়। মুনাফা কারবারের দক্ষতা ও সাফল্যের সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

2. দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য (Improve Efficiency) : কর্মচারী ও কারবারের দক্ষতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মুনাফা বৃদ্ধি পায়। মুনাফা বৃদ্ধি পেলে শ্রমিক কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধি পায় এবং তা পুনরায় কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
উদাহরণ : ইনফোসিসের মেন্টার নারায়ণমূর্তি একবার বলেছিলেন, "Our tea boys are millioner".

 

3. উন্নতি বজায় রাখা (Maintain Growth) : মুনাফা কারবারের আর্থিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় করে এবং কারবার সম্প্রসারণে সাহায্য করে।

 

4. সম্মান আদায়ের জন্য (Derive Prestige) : মুনাফা কারবারের অর্থনৈতিক দক্ষতা পরিমাপ করার মানদণ্ড। শিল্প-বাণিজ্যের উন্নতি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নির্ভর করে কারবারের মুনাফার উপর। যথেষ্ট মুনাফা শ্রমিক-কর্মচারী ও ক্রেতার মধ্যে সম্মানবোধ তৈরি করে। উদাহরণ : Tata এই (পণ্য চিহ্ন) নুন থেকে ইস্পাত সবক্ষেত্রে ক্রেতার মন জয় করতে সমর্থ হয়েছে।

 

5. সমৃদ্ধির জন্য (For the Sake of Prosperity) : বেশি মুনাফা শ্রমিক কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধি করে। শেয়ারগ্রহীতাদের লভ্যাংশ বৃদ্ধি করে এবং ক্রেতাদের ন্যায্য দামে পণ্য সরবরাহ করতে সাহায্য করে। কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের সন্তুষ্টি বিধানের মধ্য দিয়ে কারবারের সমৃদ্ধি রচিত হয়। 

 

কারবার [Business]

সংজ্ঞা : মানুষের অভাব মোচনের উদ্দেশ্যে ও মুনাফা অর্জনের জন্য আইনসম্মত অর্থনৈতিক কাজকে কারবার বলে।
উৎপাদক ও ভোগকারীর মধ্যে পণ্য বা সেবার বিনিময় ও বণ্টন হল বাণিজ্য। অধ্যাপক স্টিফেনসন (Prof. Stephenson)-এর মতে, কারবারের দুটি অংশ - (i) শিল্প (Industry) ও (ii) বাণিজ্য (Commerce)। ব্যাবসা হল বাণিজ্যের অংশ। কারবারি কার্যকলাপের শ্রেণি বিভাগ নীচে ছকের সাহায্যে দেখানো হল—


শিল্প [Industry ]

সংজ্ঞা : ধারাবাহিক কর্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদার্থের রূপান্তর ঘটিয়ে উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে উপযোগ সৃষ্টি করে মানুষের অভাবপুরণ করাকে শিল্প বলে। অন্যভাবে বললে, প্রাকৃতিক সম্পদকে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযোগসৃষ্টিকারী পণ্যে রূপান্তর করাকে শিল্প বলে। যেমন—কয়লা থেকে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন, মাটি থেকে ইট তৈরি ইত্যাদি। শিল্পের বৈশিষ্ট্য নীচে ছকের সাহায্যে দেখানো হল-

Employment, Business & Industry

 

* শিল্প দু-ধরনের পণ্য উৎপাদন করে :
(a) ভোগ্যপণ্য (Consumable Goods) (b) মূলধনি পণ্য (Capital Goods)
1907 খ্রিস্টাব্দে জে. আর. ডি. টাটা ‘টাটা স্টিল’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরাধীন ভারতবর্ষে ভারী শিল্পের (Heavy Industry) বুনিয়াদ রচনা করেন।


শিল্পের বৈশিষ্ট্য (Features of Industry) শিল্পের বৈশিষ্ট্যগুলি নীচে বিশদভাবে আলোচনা করা হল-
 

● প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ (Procurement of Natural Resources) : কৃষিজাত পণ্য, বনজ সম্পদ, খনিজ দ্রব্য, মৎস্যক্ষেত্র থেকে শিল্প প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ করে।


● উপযোগ সৃষ্টি (Creation of Utility) : শ্রম ও যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের আকার ও গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শিল্প উপযোগ সৃষ্টি করে।


● অভাব মোচন (Satisfaction of Want) : ভোগকারীর চাহিদা অনুসারে শিল্প পণ্য বা সেবার মাধ্যমে ভোক্তার অভাব মোচন ও পরিতৃপ্তি বিধানের কাজ করে।


● কর্মক্ষেত্রের ব্যাপকতা (Diversification of Activity) : শিল্প বিভিন্ন ধরনের কাজের সমন্বয় ঘটায়। শিল্প এক বিরাট কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্র। বর্তমান যুগে শিল্পের কর্মযজ্ঞ স্তব্ধ হলে সভ্যতার সংকট দেখা দেবে। শিল্পক্ষেত্রের ব্যাপকতা সুদূরপ্রসারী।


● প্রকৃতি (Nature) : প্রকৃতি অনুসারে শিল্প দু-ধরনের, মুখ্য ও গৌণ। যে শিল্পজাত পণ্য সরাসরি ভোগ করা যায় তাকে মুখ্য শিল্প এবং যে শিল্পজাত পণ্য অন্য শিল্পের কাঁচামালরূপে ব্যবহার করা হয় তাকে গৌণ শিল্প বলে।


● ব্যাবসা ও বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীলতা (Accomplishment on Trade and Commerce) : শিল্পসামগ্রী ব্যাবসা ও বাণিজ্যের ফলে উৎপাদক থেকে ভোগকারীর কাছে পৌঁছোয়। শিল্প তাই ব্যাবসাবাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল।


● অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠি (Scale of Economic Development) :
ক্রয়ক্ষমতার সামঞ্জস্যের (Purchasing Power Parity or PPP) নিরিখে ভারত পৃথিবীর চতুর্থ দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন, জাপানের পর ভারতের স্থান। ভারত পৃথিবীর দশম শিল্পোন্নত দেশ।