অভ্যন্তরীণ বা অন্তর্দেশীয় ব্যাবসা Internal Trade

অভ্যন্তরীণ বা অন্তর্দেশীয় ব্যাবসা (Internal Trade)


অভ্যন্তরীণ ব্যাবসা যে কোনো একটি দেশের ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অভ্যন্তরীণ ব্যাবসা আবার দু-ধরনের—
(a) পাইকারি ব্যাবসা ও (b) খুচরো ব্যাবসা।  

(a) পাইকারি ব্যাবসা (Wholesale Trade) : উৎপাদক বা আমদানিকারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে অল্প পরিমাণে খুচরো ব্যবসায়ীকে বিক্রি করলে তাকে পাইকারি ব্যাবসা বলে। উদাহরণ : কোলে মার্কেট, বড়োবাজার প্রভৃতি হল পাইকারি বাজার।  

(b) খুচরো ব্যাবসা (Retail Trade) : পাইকারি ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করে ভোগকারীদের চাহিদামতো পণ্য বিক্রয় করাকে খুচরো ব্যাবসা বলে। উৎপাদনকারী ও ভোগকারীদের মধ্যে পাইকারি ও খুচরো ব্যাবসায়ী সংযোগকারী হিসেবে কাজ করে। উদাহরণ : বর্তমানে রিলায়েন্স ফ্রেস, আদিত্য বিড়লা গ্রুপের মোর। খুচরো ব্যাবসায় বিদেশি বিনিয়োগের ফলে ওয়ালমার্ট খুচরো ব্যাবসায় অংশ নিতে চলেছে।

Internal Trade


(ii) বৈদেশিক বাণিজ্য / আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (External Trade) : একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের ব্যাবসায়িক লেনদেন সংঘটিত হলে তাকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলে।
 

● বৈদেশিক বাণিজ্যের শ্রেণিবিভাগ (Classification of External Trade)
 

বৈদেশিক বাণিজ্যকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। 

(a) আমদানি ব্যাবসা (Import Trade) : দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে যখন কোনো দেশ অন্য দেশ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয় করে তখন তাকে আমদানি ব্যাবসা বলে

 (b) রপ্তানি ব্যাবসা (Export Trade) : দেশের মানুষের চাহিদা উদ্বৃত্ত পণ্য ও সেবা যখন বিদেশে বিক্রয় করা হয় তখন তাকে রপ্তানি ব্যাবসা বলে।

(c) পুনঃরপ্তানি ব্যাবসা (Re-export Trade or Entreport Trade) : যখন কোনো পণ্য রপ্তানির জন্য আমদানি করা হয় তখন তাকে পুনঃরপ্তানি ব্যাবসা বলে। উদাহরণ : পৃথিবীতে যত হিরে বিক্রি হয় তার নব্বই শতাংশ ভারতে আমদানি করে কাটিং করার পর বিদেশে রপ্তানি হয়। গুজরাটের সুরাট হিরের জন্য বিখ্যাত।


 

ব্যাবসা সহায়ক কার্যাবলি [Auxilaries to Trade]


কারবারের ক্ষেত্রে বাধা দূর করতে পরিবহণ, যোগাযোগ, অর্থসংস্থান, বিমা, মোড়কজাতকরণ, গুদামজাতকরণ ও বিজ্ঞাপনের সাহায্য নেওয়া হয়। কারবারের ক্ষেত্রে এই সমস্ত সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলি তৃতীয় ক্ষেত্রের শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এরা ব্যাবসা ও শিল্পের সহায়ক প্রতিষ্ঠানরূপে পরিচিত।


● পরিবহণ (Transport)

উৎপাদক ও ভোগকারী পরস্পর থেকে দূরে বসবাস করে। উৎপাদক ও ভোগকারীর মধ্যে স্থানগত বাধা দূর করতে পরিবহণের সাহায্য নেওয়া হয়। পণ্য কোনো একটি বিশেষ স্থানে উৎপাদিত হয় কিন্তু পরিবহণের সাহায্য নেওয়া হয় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে পণ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে।

Internal Trade

 

● যোগাযোগ (Comunication)

ব্যাবসার সাফল্য নির্ভর করে পণ্যের ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগের উপর। পণ্য ক্রয়ের দরপত্র, পণ্যক্রয় কার্যকর করা, পণ্যের মূল্য পরিশোধ, পণ্য বিক্রয়ের শর্ত ও অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগের বিভিন্ন উপায় হল— চিঠিপত্র, ই-মেল, টেলিগ্রাম, টেলিকনফারেন্স, ইন্টারনেট, পেজার, ফ্যাক্সবার্তা ইত্যাদি।

 

● অর্থসংস্থান (Financing)

কারবার শুরু, কারবার পরিচালনা ও উন্নতিতে অর্থের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্যাবসার অর্থ কারবারির কাছে মানবজীবনের রক্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ (Finance is the lifeblood of the organization)। অর্থসংস্থান ছাড়া ব্যাবসার কথা চিন্তা করা যায় না। অর্থসংস্থানের উৎসগুলি হল— নিজস্ব মূলধন ও ঋণকৃত মূলধন। শেয়ার, ঋণপত্র (কোম্পানির ক্ষেত্রে), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ।


● বিমা (Insurance)

ব্যাবসা সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা ব্যাবসার সহজাত সঙ্গী। বিমা কোম্পানির প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে পণ্যবিমা, নৌ-বিমা, মোটরগাড়ি-বিমা, অগ্নিবিমা করে থাকে। ব্যাবসার ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা দূর করা সম্ভব নয় কিন্তু কমানো সম্ভব।

 

● মোড়কজাতকরণ (Packaging)

যে আধারে পণ্য সংরক্ষিত হয় তাকে মোড়কজাতকরণ বলে। আকর্ষণীয় মোড়ক পণ্য বিক্রিকে দারুণভাবে প্রভাবিত করতে পারে। মোড়কের গায়ে পণ্যের পরিমাণ, গুণগতমান, পণ্য ব্যবহারের সময়, পণ্যের উপাদান প্রভৃতি উল্লেখিত থাকে। ক্রেতার কাছে পণ্য আকর্ষণীয় করতে মোড়কজাতকরণের ভূমিকা অসীম। মোড়ক হল পণ্য পরিকল্পনার অংশ অন্যদিকে মোড়কজাতকরণ হল বিপণন কৌশলের অংশ (Package is a part of product planning, while packaging is an important element of marketing strategy.) 

 


● বাজারজাতকরণ (Marketing)

অর্থসংস্থান ও উৎপাদনের পর কারবারের অন্যতম কাজ পণ্য বাজারজাতকরণ। কারবারের শ্রীবৃদ্ধি নির্ভর করে বিক্রয় বৃদ্ধির ওপর। বর্তমান বাজার জটিল ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। বিক্রয় সম্প্রসারণ (Sales Promotion) ও বিজ্ঞাপনের (Advertising)-এর মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধির সুপারিশ বাজার বিশেষজ্ঞরা করে থাকেন। গুণগতমানযুক্ত পণ্য, উন্নত মোড়ক, ন্যায্য দাম পণ্য বিক্রয়ের সাফল্য এনে দেয়।


● গুদামজাতকরণ (Warehousing)

একদিকে যেমন উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য গুদামের প্রয়োজন, তেমনি উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বিক্রির অপেক্ষায় গুদামজাতকরণ করা হয়ে থাকে। গুদামজাতকরণ সময়গত বাধা দূর করতে সাহায্য করে। বর্তমান কারবারি জগতে গুদামজাতকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণ : ফল, দুধ, ফুল, আলু গুদামজাতকরণ ছাড়া দীর্ঘসময় পর্যন্ত বিক্রি করা অসম্ভব।


● বিজ্ঞাপন (Advertising)

বিজ্ঞাপন উৎপাদক ও ভোগকারীর মধ্যে যোগাযোগের সূত্র রচনা করে। বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ আর. কে. স্বামী (R. K. Swamy)-র মতে, বিজ্ঞাপন বিনিয়োগের তুলনায় অধিক ফল দেয় (Advertisement can deliver results disproportionate to investment.)। পৃথিবী বিখ্যাত Coca Cola কোম্পানির 1920 খ্রিস্টাব্দের বিজ্ঞাপনের ভাষা ছিল “তৃষার্ত কোনো ঋতু জানে না” (Thirst knows no season)। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার (আনন্দমেলা, তারিখ: 31.08.2003)