বাণিজ্যের গুরুত্ব বা সামাজিক দায়িত্ব Importance and Social Significance of Commerce

বাণিজ্য [ Commerce ]


"Commerce embraces all those process which help to break the barriers between producers and consumers." যে সমস্ত কাজ পণ্য বা সেবার বিনিময়ে এবং ক্রয়বিক্রয়ের মাধ্যমে ভোগকারীর কাছে পৌঁছোতে সাহায্য করে তাকে বাণিজ্য বলে। এম. সি. শুক্লা (M.C. Shukla)-র মতে, বাণিজ্যের কাজ বিনিময় ও বণ্টন। স্টিফেনসন (Stepheson)-এর মতে, যেসব প্রক্রিয়া দ্রব্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত, স্থানগত ও সময়গত বাধা অপসারণে নিযুক্ত তাদের সমষ্টিকে বাণিজ্য বলে। 

Importance and Social Significance of Commerce

 

অধ্যাপক ওয়াই. কে. ভূষণ (Y. K. Bhushan) 'Fundamental of Business Organisation and Management' পুস্তকে বলেছেন, সংক্ষিপ্তাকারে, কারবারি বিনিময় সংক্রান্ত কার্যকলাপের যে অংশ ব্যক্তিগত বাধা (ব্যাবসার মাধ্যমে), বিনিময় সংক্রান্ত বাধা (ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে), স্থানগত বাধা (পরিবহণ, বিমা ও মোড়ক ব্যবস্থার মাধ্যমে), তথ্যগত বাধা (বিজ্ঞাপন প্রভৃতির মাধ্যমে) অপসারণ করে দ্রব্যসামগ্রীর আদানপ্রদান সহজ করতে চেষ্টা করে তাকে বাণিজ্য বলে 

(To sumup, Commerce may be defined as that part of business activity which seeks to facilitate exchange of goods by removing hindrances of person (through trade)
hindrances of exchange (through banking), hindrances of place (through transportation, insurance and packing), hindrances of time (through warehousing), and hindrances of knowledge (through advertising etc.) 

ব্যাবসা ও ব্যাবসাসহায়ক কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করাই হল বাণিজ্যের কাজ।
 

বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য (Features of Commerce)


● বাধা অপসারণ (Removal of Hindrances) : বাণিজ্য ব্যক্তিগত বাধা, বিনিময় সংক্রান্ত বাধা, তথ্যগত বাধা দূর করে।

● বিনিময় ও বণ্টনের সহায়তা (Co-operation between Exchange and Distribution) : বাণিজ্য বিনিময় ও বণ্টনের মধ্যে গভির সঞ্চার করে।

● ব্যাপকতা (Pervasiveness) : শিল্পের মতো বাণিজ্যের কর্মক্ষেত্র ব্যাপক ও জটিল নয়।

● কার্যকলাপের প্রকৃতি (Nature of Activities) : একদিকে শিল্পের সাফল্য যেমন নির্ভর করে বাণিজ্যের সাফল্যের ওপর, তেমনি বাণিজ্যিক অগ্রগতিও শিল্পের অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল। বাণিজ্য হল কারবারের গৌণকার্য।

● অপরিহার্য অঙ্গ (Inevitable part) : বাণিজ্য কারবারের সামগ্রিক ক্রিয়াকলাপের একটি অপরিহার্য অংশ। কারবারের সাফল্য বাণিজ্যের সাফল্য ছাড়া অসম্ভব।

 


বাণিজ্যের গুরুত্ব বা সামাজিক দায়িত্ব (Importance and Social Significance of Commerce)


● বিভিন্ন বাধা অপসারণ (Removal of Different Barriers or Hindrances) :
বাণিজ্যের প্রধান কাজ স্থানগত, সময়গত, ঝুঁবিগত, তথ্যগত ও ব্যক্তিগত বাধা অপসারণ করে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

● উৎপাদন ও বিপণনের ধারাবাহিকতা রক্ষা (Maintenance of Consistency between Production and Sale) : বাণিজ্যের ফলে কাঁচামালের জোগান ও উৎপাদিত পণ্যের বিপণনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। শিল্পের সম্প্রসারণ, শিল্পের উন্নয়ন ও অর্থনীতির উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখে বাণিজ্য।

● বাজারের প্রসার (Expansion of Market) : বাণিজ্যের ফলে কাঁচামালের জোগান ও উৎপাদিত পণ্যের বিপণনের ধারাবাহিকতা যেমন বজায় থাকে তেমনি বাণিজ্য উৎপাদনকারী ও ভোগকারীর মধ্যে সংযোজন রক্ষা করে। চাহিদামতো ভোগ্যপণ্য পাওয়ার ফলে জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের পাশাপাশি বাজারের সম্প্রসারণ ঘটে।

● শিল্প ও ব্যাবসার পরিচালনা (Monitoring Industry and Trade) : বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে শিল্প ও ব্যাবসার প্রসারের সহায়তা করে। ফলস্বরূপ পণ্যসামগ্রী ও সেবাসামগ্রী ধারাবাহিকতার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা অব্যাহত থাকে।

● কর্মসংস্থান (Employment) :
বাণিজ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে। বাণিজ্যের উন্নয়নের পরিবহণ, যোগাযোগ, ব্যাংক, বিমা ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব হয়েছে। 


ব্যাবসা [Trade]


যে প্রক্রিয়ার সাহায্যে শিল্পে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে উৎপাদনকারী ও ভোগকারীর মধ্যেকার বাধা দূর করে উভয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজ করে তাকে ব্যাবসা বলে। সহজভাবে বললে, বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হল ব্যাবসা। ব্যাবসা ক্রেতাবিক্রেতার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজ করে। মূল্যের বিনিময়ে দ্রব্য হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে বলে ব্যাবসা।

 

Social Significance of Commerce


ব্যাবসার বৈশিষ্ট্য (Features of Trade)


● ক্রয়বিক্রয় (Buying and Selling) :
ব্যাবসার প্রধান কাজ ক্রয়বিক্রয়। ব্যাবসা কারবারের গৌণ কাজ করে থাকে।

● উপযোগিতা সৃষ্টি (Creation of Utility) : ব্যাবসা স্থানগত উপযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি ব্যক্তিগত বাধা দূর করে।

● উৎপাদনকারী ভোগকারীর মধ্যে যোগাযোগ (Communication between Producer and Consumer) : ব্যাবসার মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

● কাজের প্রকৃতি (Nature of Work) : ব্যাবসার মাধ্যমে পণ্যের মালিকানার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মূল্যের আদানপ্রদান ঘটে।

● কর্মসংস্থান (Employment) : শুধুমাত্র ক্রয়বিক্রয়ের কাজের মধ্যে ব্যাবসার কর্মক্ষেত্র সীমাবদ্ধ। ব্যাবসাকে বাণিজ্যের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতবর্ষে ব্যাবসায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষ যুক্ত রয়েছে। ব্যাবসা স্বনিযুক্ত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করেছে। 

 

ব্যাবসার গুরুত্ব ও সামাজিক দায়িত্ব (Importance and Social Significance of Trade) 

 

● পণ্যের মালিকানা হস্তান্তর (Transfer of Ownership) : ব্যাবসার ফলে পণ্যের মালিকানা বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার কাছে হস্তান্তরিত হয়। 

● ক্রয়বিক্রয়ের দায়িত্ব গ্রহণ ( Taking Responsibility of Buying and Selling) : ব্যাবসা একদিকে যেমন শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ করে তেমনি উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করে।

● জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা (Provision of Livelihood) : সমাজের বিপুল পরিমাণ মানুষ ব্যাবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সঙ্গে ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

● উৎপাদন ও বিক্রয়ে সহায়তা (To Help Production and Sale) : ব্যাবসা শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে উৎপাদনে সহায়তা করে। আবার, উৎপাদিত সামগ্রী ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিয়ে ভোগকারীর অভাব মোচনের দায়িত্ব পালন করে।

● জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি (Increase of National Wealth) : ব্যাবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

● জনগণের চাহিদা পূরণ (Fulfilment of Demand for People) : মানুষের চাহিদা অফুরন্ত কিন্তু জোগান সীমিত। ব্যাবসা অর্থনৈতিক নিয়ম মেনেই জনগণের চাহিদা পূরণ করে।

● ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধি (Increase Consumption) : ব্যাবসা প্রসারের জনগণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে জনগণের চাহিদা পূরণ করতে শিল্পের উৎপাদনও সঙ্গে সঙ্গে একদিকে বৃদ্ধি যেমন পায়।